লিভারপুলের পর তুরস্কেও আবার সতীর্থ সালাহ-ফাবিনহো
লিভারপুলে একসঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর আবারও একই দলের জার্সিতে দেখা যাবে মোহামেদ সালাহ – ফাবিনহোকে। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ফাবিনহো তুরস্কের সুপার লিগের ক্লাব ত্রাবজোনস্পোরে দুই বছরের চুক্তিতে যোগ দিয়েছেন। এর ফলে কয়েক বছর পর ক্লাব ফুটবলে আবারও সতীর্থ হিসেবে মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন লিভারপুলের সাবেক এই দুই তারকা।
ত্রাবজোনস্পোর সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাবিনহোর সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নতুন ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর সালাহর সঙ্গে আবার খেলতে পারার বিষয়টি নিয়ে নিজের আনন্দের কথাও জানিয়েছেন ফাবিনহো। লিভারপুলে একসঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতি নতুন ক্লাবেও তাদের পারফরম্যান্সে কাজে লাগবে বলে আশা করছেন সমর্থকেরা।
সালাহর সঙ্গে আবার খেলতে পেরে উচ্ছ্বসিত ফাবিনহো
তুরস্কে পৌঁছানোর পর ফাবিনহো জানিয়েছেন, সালাহর সঙ্গে আবারও একই দলের হয়ে খেলতে পারাটা তার জন্য বিশেষ অনুভূতি। লিভারপুলে প্রায় পাঁচ বছর পাশাপাশি খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের।
সালাহর প্রশংসা করে ফাবিনহো বলেন, মিশরীয় ফরোয়ার্ড মাঠে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন এবং তার প্রতি দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে সম্মান। নতুন ক্লাবে নিজের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দিয়ে দলের অন্য খেলোয়াড়দেরও সহযোগিতা করতে চান তিনি।
ফাবিনহোর ত্রাবজোনস্পোরে যোগ দেওয়া তাই শুধু একটি নতুন ট্রান্সফার নয়; সালাহর সঙ্গে পুরোনো সম্পর্কেরও নতুন অধ্যায়। লিভারপুলে তাদের বোঝাপড়া এবার তুরস্কের ফুটবলেও কতটা কাজে আসে, সেটি দেখার অপেক্ষায় সমর্থকেরা।
সালাহ-ফাবিনহো আবারও একই ড্রেসিংরুমে
লিভারপুলে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে খেলার পর আবারও একই ক্লাবের হয়ে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন সালাহ-ফাবিনহো। লিভারপুলে তাদের বোঝাপড়া ও অভিজ্ঞতা ছিল দলের সাফল্যের অন্যতম অংশ। এবার ত্রাবজোনস্পোরে সেই পুরোনো রসায়ন নতুন করে কাজে লাগানোর সুযোগ এসেছে। মাঝমাঠে ফাবিনহোর নিয়ন্ত্রণ ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে আক্রমণভাগে সালাহর গতি এবং গোল করার দক্ষতা ত্রাবজোনস্পোরকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।
লিভারপুলে একসঙ্গে জিতেছেন একাধিক শিরোপা
২০১৮ সালে লিভারপুলে যোগ দেওয়ার পর দ্রুতই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন ফাবিনহো। মূলত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে খেললেও বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং আক্রমণ তৈরিতে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
লিভারপুলে থাকার সময় ফাবিনহো ও সালাহ একসঙ্গে বেশ কিছু বড় সাফল্য পেয়েছেন। প্রিমিয়ার লিগ ও উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি জয়ের পাশাপাশি লিভারপুলের হয়ে আরও বেশ কয়েকটি শিরোপা জিতেছেন তারা।
ফাবিনহো লিভারপুলের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২১৯টি ম্যাচ খেলেছেন। এই সময়ে তার ট্রফি তালিকায় ছিল প্রিমিয়ার লিগ, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, এফএ কাপ, লিগ কাপ, ক্লাব বিশ্বকাপ এবং উয়েফা সুপার কাপ। লিভারপুলের সাফল্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গে তার নামও জড়িয়ে আছে।
সৌদি আরবের পর তুরস্কে নতুন চ্যালেঞ্জ
২০২৩ সালে লিভারপুল অধ্যায় শেষ করে সৌদি আরবের ক্লাব আল-ইত্তিহাদে যোগ দেন ফাবিনহো। সেখানে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে দলের মাঝমাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। সৌদি ক্লাবটির হয়ে ঘরোয়া লিগের শিরোপাও জিতেছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
এবার তুরস্কে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন ফাবিনহো। ৩২ বছর বয়সে ত্রাবজোনস্পোরে তার অভিজ্ঞতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খেলার চাপ সামলাতে তার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সালাহরও শুরুটা হয়েছে দুর্দান্ত
ফাবিনহোর আগে ত্রাবজোনস্পোরে যোগ দিয়েছেন মোহামেদ সালাহ। নতুন ক্লাবে মিশরীয় এই তারকার শুরুটাও হয়েছে বেশ চমকপ্রদভাবে।
রোববার ত্রাবজোনস্পোরের হয়ে প্রথমবার শুরুর একাদশে জায়গা পেয়েই জোড়া গোল করেন সালাহ। তার পারফরম্যান্সে দলও গুরুত্বপূর্ণ জয় পায়। নতুন ক্লাবে শুরুতেই এমন পারফরম্যান্স দেখিয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
এখন ফাবিনহোর আগমনে ত্রাবজোনস্পোরের মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে অভিজ্ঞতার একটি দারুণ সমন্বয় তৈরি হয়েছে। ফাবিনহোর বল নিয়ন্ত্রণ ও মাঝমাঠ সামলানোর দক্ষতার সঙ্গে সালাহর গতি ও গোল করার ক্ষমতা দলটিকে বাড়তি শক্তি দিতে পারে।
ইউরোপা লিগে ত্রাবজোনস্পোরের সামনে কঠিন পরীক্ষা
গত মৌসুমে তুরস্কের শীর্ষ লিগে তৃতীয় অবস্থানে থেকে শেষ করেছিল ত্রাবজোনস্পোর। এর ফলে ইউরোপা লিগের প্লে-অফে খেলার সুযোগ পেয়েছে ক্লাবটি।
প্লে-অফের প্রথম লেগে হাঙ্গেরির ফেরেঙ্কভারোসের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছে ত্রাবজোনস্পোর। ফলে দ্বিতীয় লেগে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইউরোপা লিগের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়াই এখন তাদের লক্ষ্য।
এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর আগে দলে ফাবিনহোর মতো অভিজ্ঞ একজন খেলোয়াড়ের যোগদান নিঃসন্দেহে কোচের জন্য বাড়তি সুবিধা। একই সঙ্গে সালাহর সাম্প্রতিক গোলও দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে।
পুরোনো জুটি কি নতুন সাফল্য এনে দেবে?
লিভারপুলে একসঙ্গে খেলার সময় সালাহ ও ফাবিনহো যে সাফল্যের অংশ ছিলেন, এবার তুরস্কে সেই অভিজ্ঞতাই নতুন করে কাজে লাগানোর সুযোগ এসেছে। একজন মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ তৈরি করবেন, অন্যজন আক্রমণভাগে গোলের সুযোগ তৈরি করবেন এই সমন্বয় ত্রাবজোনস্পোরের জন্য কার্যকর হতে পারে।
তবে নতুন ক্লাবে মানিয়ে নেওয়া, দলের কৌশলের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া এবং ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার চাপ সামলানো সবকিছুই তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
সালাহ-ফাবিনহোর পুনর্মিলন ইতোমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, লিভারপুলের পুরোনো এই জুটি ত্রাবজোনস্পোরকে কতটা সাফল্য এনে দিতে পারে।
Frequently Asked Questions (FAQ)
ফাবিনহো কোন ক্লাবে যোগ দিয়েছেন?
ফাবিনহো তুরস্কের সুপার লিগের ক্লাব ত্রাবজোনস্পোরে দুই বছরের চুক্তিতে যোগ দিয়েছেন।
সালাহ ও ফাবিনহো কি আগে একই দলে খেলেছেন?
হ্যাঁ। লিভারপুলে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তারা সতীর্থ ছিলেন।
ফাবিনহো লিভারপুলের হয়ে কত ম্যাচ খেলেছেন?
লিভারপুলের হয়ে ফাবিনহো সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২১৯টি ম্যাচ খেলেছেন।
ফাবিনহো লিভারপুলের হয়ে কী কী শিরোপা জিতেছেন?
তিনি প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগ, এফএ কাপ, লিগ কাপ, ক্লাব বিশ্বকাপ ও উয়েফা সুপার কাপ জিতেছেন।
লিভারপুল ছাড়ার পর ফাবিনহো কোথায় খেলেছেন?
২০২৩ সালে লিভারপুল ছাড়ার পর তিনি সৌদি আরবের আল-ইত্তিহাদে যোগ দেন। এরপর তুরস্কের ত্রাবজোনস্পোরে নতুন অধ্যায় শুরু করেন।
ত্রাবজোনস্পোরে সালাহর শুরু কেমন হয়েছে?
শুরুর একাদশে প্রথম সুযোগ পেয়েই সালাহ জোড়া গোল করেছেন, যা নতুন ক্লাবে তার দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছে।
সালাহ-ফাবিনহো কি আগে একই দলে খেলেছেন?
হ্যাঁ। সালাহ-ফাবিনহো লিভারপুলে একসঙ্গে খেলেছেন। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তারা সতীর্থ ছিলেন এবং একসঙ্গে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগসহ একাধিক শিরোপা জিতেছেন।
উপসংহার
সালাহ-ফাবিনহোর পুনর্মিলন ত্রাবজোনস্পোরের জন্য নিঃসন্দেহে বাড়তি আকর্ষণের বিষয়। লিভারপুলে একসঙ্গে সাফল্য পাওয়ার পর এবার তুরস্কের ক্লাবটিতে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন তারা। ফাবিনহোর অভিজ্ঞতা ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সালাহর আক্রমণাত্মক দক্ষতা ত্রাবজোনস্পোরকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এগিয়ে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, পুরোনো এই জুটি নতুন ক্লাবে কতটা সাফল্য এনে দিতে পারে।
